ঢাকারবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উৎসব
  5. ঐতিহ্য
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. পরিবেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পোশাক রপ্তানি: দেশি কাঁচামালে ‘ভর করে’ বাড়ছে মূল্য সংযোজন

বার্তা ডেস্ক।। দ্য স্টার নিউজ
আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের পোশাক খাতে স্থানীয় কাপড়সহ অন্যান্য কাঁচামালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিতে ব্যয় কমছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের, ফলে মূল্য সংযোজন বাড়ার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

পোশাক রপ্তানিতে গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে মূল্য সংযোজন কিছুটা বেড়েছে। এর জন্য দেশীয় কাপড়ের ব্যবহার ও স্থানীয়ভাবে তৈরি কাঁচামালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

মূল্য সংযোজনের মানে হল কোনো পণ্য বা সেবা তৈরি ও বিক্রি করে অর্জিত মোট আয়ের বেশি অংশ দেশের অর্থনীতিতে থেকে যাচ্ছে। আর আগের চেয়ে বেশি নিট লাভ বা সম্পদ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৩৮৬ কোটি ৯৭ লাখ বা ৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ ডলার চলে গেছে রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে। এ হিসাবে ভ্যালু অ্যাড বা মূল্য সংযোজন হচ্ছে ৬১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এর আগে গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট পোশাক রপ্তানি হয় ৯১১ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের। এর মধ্যে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ হয় ৪৩ দশমিক ২২ শতাংশ বা ৩৯৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এ সময়ে মূল্য সংযোজন দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশে।

পোশাক তৈরির কাঁচামালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় কাপড়ে। এটি ছাড়াও সুতা, তুলা, রঙ, কেমিকেল, সিনথেটিকসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এই আমদানি খরচ বাদে অবশিষ্ট অংশ যোগ হয় মূল্য সংযোজন হিসেবে।

কাঁচামালের খরচের বাইরে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস অর্থাৎ জ্বালানি, মজুরি, অবকাঠামো ভাড়া ও ইউটিলিটি (পানি, হোল্ডিং ট্যাক্স) খরচ ও মুনাফা যোগ করলে দাঁড়ায় মূল্য সংযোজন। এই মূল্য সংযোজনের মধ্যে খরচ বাদ দিলে অবশিষ্ট অংশই উদ্যোক্তার মুনাফা হিসাবে থাকে।

আগের তুলনায় ভালো মানের কাপড় এখন দেশে পাওয়ায় রপ্তানি সময় কমিয়ে আনতে বিদেশি ক্রেতারা এসব কাপড়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন বলে করেন অনন্ত গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক খান।

পোশাক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভ্যালু অ্যাডিশন তো বাড়ার কারণ হল, আমাদের দেশের ভেতরে সব জিনিসপত্র তৈরি হচ্ছে এখন। আগে জিপার (চেইন) তো সবই বাইরে থেকে আনতে হত, এখন তো আনা লাগে না। স্পেশাল জিপার হইলে লাগে, অন্যথায় লাগে না।”

তিনি বলেন, খুব বেশি বিশেষায়িত কাপড় ছাড়া বাকি সব কাপড়ই স্থানীয় টেক্সটাইল মিল থেকে নিচ্ছেন ক্রেতারা। এতে রপ্তানিতে সময় কম লাগছে। এই সময় কমিয়ে আনায় সকলেরই সুবিধা হচ্ছে।

“কাঁচামাল ম্যাক্সিমামই এখানে হচ্ছে। আরো বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে নতুন নতুন ফ্যাক্টরি হচ্ছে। তারপরেও মাঝে মাঝে কিছু কিছু কাঁচামাল ইম্পোর্ট করতে হত, এখন সেটা কমে গেছে।”

তার কথায়, “বাংলাদেশের যে জিনিসটা হচ্ছে তা হল, কিছু নতুন ফেব্রিকস হচ্ছে দেশেই। বায়াররা (ক্রেতা) এখন বাংলাদেশের কাপড় ব্যবহার করে। বায়াররা বেশিরভাগ এখন ওই লিড টাইম কমানোর জন্য বাংলাদেশের কাপড় ব্যবহার করে। সেটি করলে লিড টাইম কমে, ভ্যালু অ্যাডিশনটা খুব ভালোভাবে বাড়ে আর কি।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তৈরি পোশাক খাতে স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজন হয় ৬১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এই সময়ে মোট পোশাক রপ্তানি হয় ৯১৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের। এর মধ্যে নিট রপ্তানি হয় ৫৬৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের আর কাঁচামাল আমদানি হয় ৩৫৫ কোটি ৫১ লাখ ডলারের।

তার আগের প্রান্তিকে অর্থাৎ গত অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজন হয় ৬৪ দশমিক ২২ শতাংশ, এটি গত ৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বা স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজন ছিল ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হওয়া সময় হচ্ছে ২০২১ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৬৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ২০২৩ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ৬৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

মূল্য সংযোজন ২০২৩ সাল থেকে ৫৬ থেকে ৬১ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে।

মূল্য সংযোজনের হার পোশাকের নকশা, আকার ও কাপড়ের মান ভেদে পৃথক হয়। এ খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টি শার্ট ও ট্রাউজারের মত পণ্যে মূল্য সংযোজন হয় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ।

মাঝারি দরের পোশাকে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ হতে পারে। সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হয় উচচ দর ও মানের পোশাকে। এক্ষেত্রে আমদানি খরচের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হতে পারে।

সরকার সময়ে সময়ে মূল্য সংযোজনের হার নির্ধারণ করে আসছে স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজন বাড়াতে।

সবশেষ নীতিমালা ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতে মূল্য সংযোজনের ন্যূনতম হার হচ্ছে ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ। বন্ডেড ও নন-বন্ডেড সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানি ও পোশাকের ধরন অনুযায়ী এ হার নির্ধারণ করা হয়।

অন্তর্বাস ও সিনথেটিক ফাইবারের তৈরি বিশেষায়িত পণ্যে ন্যূনতম মূল্য সংযোজনের হার ধরা হয় ৪০ শতাংশ। ওভেন ও নন ওভেন পোশাক উভয় ক্ষেত্রে একই হার ধরা হয় সবশেষ আমদানি নীতিমালাতে।

এ বিষয়ে নিটওয়্যার খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সিনথেটিক ফেব্রিক্সে এত বেশি মূল্য সংযোজন এখনো সম্ভবপর না। নীতিমালা করার সময়ে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই হার নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।”

ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভ্যালু অ্যাডিশন রেশিও বেড়ে যাওয়ার কয়েকটি কারণ হল তুলা ও সুতার দাম বৈশ্কিকভাবে কমেছে মানে সস্তা হয়েছে আগের তুলনায়। এটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরেও পাওয়া যায়, আবার আমদানিও করা যায়।

“দেশের ভেতর থেকে নিলে তো ভ্যালু অ্যাডিশন বেড়ে যাবে। কাঁচামাল আমদানি খরচ তো কমবে।”

তিনি বলেন, “ওভেন আইটেমে ভ্যালু অ্যাড বেশি হয়। ওভেন পণ্য রপ্তানি বেশি হচ্ছে আগের চেয়ে। এটিও একটি কারণ।”


সংবাদটি শেয়ার করুন....