
গ্রিনল্যান্ড থেকে ‘রুশ হুমকি’ দূরে সরাতে ডেনমার্ক কিছুই করতে পারছে না মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “এখনই সময়, এটা করে ফেলার।”
“২০ বছর ধরে নেটো ডেনমার্ককে বলছে তোমাকে রুশ হুমকি গ্রিনল্যান্ড থেকে দূরে সরাতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ডেনমার্ক এ বিষয়ে কিছুই করতে পারছে না,” নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এমনটাই লিখেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তার এ মন্তব্য নিয়ে হোয়াইট হাউস, ডেনমার্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এর মালিকানা ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হবেন না বলে ট্রাম্প বারবারই বলে আসছেন।
কিন্তু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা বলছেন, স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং এর বাসিন্দারাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না।
ইউরোপের দেশগুলোও ডেনমার্কের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প ডেনমার্কসহ ৮ ইউরোপীয় দেশের পণ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ গ্রিনল্যান্ড কিনতে না পারছে ততক্ষণ এ শুল্ক থাকবে বলেও সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তার ভাষ্য, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এ কারণে দ্বীপটি তাদের দরকার।
অন্যদিকে ডেনিশ ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড নেটোর সম্মিলিত নিরাপত্তা ছাতার আওতাতেই আছে। প্রয়োজনে সেখানে সৈন্য উপস্থিতি, সামরিক শক্তি বাড়ানো যায়, কিন্তু এটি বিক্রি হতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক শক্তির মাধ্যমে বলপ্রয়োগে দ্বীপটি দখলে নেয় তাহলে কার্যত ‘নেটোর অবসান’ হবে বলেও তারা হুঁশিয়ার করেছে।

