
ফরিদপুর শহরে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি মাদ্রাসার টিনশেড ভবন উচ্ছেদ করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় বাধা দেওয়ায় দুই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় একটি সুপার শপ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা ওসি মাহামুদুল হাসাস।
আহত দুই শিক্ষকের মধ্যে মাওলানা মুহিবউল্লাহকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ফরিদপুর জেলা কমিটির সহসভাপতি আবদুল আলিমের নেতৃত্বে একটি দল ভেকু দিয়ে ওই মাদ্রাসার একটি টিনশেড ভবন উচ্ছেদ করেন। এ সময় বাধা দিলে মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে মারধর করা হয়।
মাদ্রাসা ভবন ভাঙচুর ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদ্রাসা সংলগ্ন আবদুল আলিমের সুপার শপে হামলা চালায় একদল লোক। এ সময় দোকানটি ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এলাকাবাসী বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে আবদুল আলিমের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষক মহিবুল্লাহর বিরোধ চলছিল। এরই জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে নতুন করে আবার সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ওসি মাহামুদুল হাসাস বলেন, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করা হয়। তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে জাসাসের ফরিদপুর জেলা কমিটির সহসভাপতি আবদুল আলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

