
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।
ভারতের সংবাদ সংস্থা— এএনআইয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিনন্দন জানান বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বিজেপি সরকারকে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতা হেলাল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে জয় পাওয়া সুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে আমি অভিনন্দন জানাই।
“আমি মনে করি, এই বিজয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আগের মতো সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করবে।”
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানি সম্পদমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়েছিল।
মনমোহন সিংয়ের সফরেই বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।
নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও মমতার মত বদলায়নি।
এখন মমতার বিদায়ে চুক্তিটি আলোর মুখ দেখবে কিনা, সেই জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।
অনেকের মতো আজিজুর বারী হেলালও মনে করেন, মমতা ব্যানার্জি তিস্তা চুক্তির ‘বাধা’ ছিলেন।
তিনি বলেন, “আগে আমরা দেখেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা ব্যারাজ বাস্তবায়নে বাধা ছিলেন। আমার ধারণা, এখন বাংলাদেশ সরকার ও মোদি সরকার, যেটা তারা দীর্ঘদিন ধরে করতে চাইছিল, সেই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে বিজেপি সহায়তা করবে।
“তৃণমূল কংগ্রেসের জায়গায় বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এখন তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে আমি মনে করি।”
বাংলাদেশের লাগোয়া রাজ্যটিতে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে নিয়ে প্রথমবারের মত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি; আর মাত্র ৮০টি আসনে জিতে ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সংগ্রেসকে।

