
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কত খরচ হয়েছে, সে হিসাব দিতে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ ২৩ দলকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আগামী ১৩ জুনের মধ্যে এসব দলকে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ফলের গেজেট প্রকাশ হয়।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ভোটের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে দলের ব্যয় বিবরণী জমার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সে হিসেবে ১৩ মে নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ২৭টি দল ।
বিএনপি ও এনসিপিসহ যে ২৩টি দল ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি সে দলগুলোকে চিঠি দিয়ে তাগিদ দিয়েছে ইসি।
বাকি ২১ দল হল-বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণফোরাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
আইন অনুযায়ী, কোনো দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের নির্বাচনি ব্যয় জমা দিতে ব্যর্থ হলে ইসি ওই দলকে ৩০ দিনের মধ্যে বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সতর্কতামূলক নোটিস জারি করবে। তবু ওই রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যয় বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কমিশন ১০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে আরও ১৫ দিন সময় দিতে পারবে।
যদি সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যেও বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কমিশন ওই দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।
এর আগে ১৩ মে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমার সময় শেষ হওয়ার পর নতুন করে আরও এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছে বলে রোববার বলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেছিলেন, “আমরা একটা সময় বাড়িয়ে দিয়েছি। এখন বর্ধিত সময়ের মধ্যে দলের নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী জমা দিতে অনুরোধ করে, আরপিওর ধারা তুলে ধরে চিঠি দিতে বলেছি। বর্ধিত সময়ের মধ্যে হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও অনুযায়ী, কোনো দলের প্রার্থী ২০০ জনের বেশি হলে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে।
প্রার্থীর সংখ্যা ১০০ থেকে ২০০ জনের মধ্যে হলে খরচ করা যাবে ৩ কোটি টাকা। কোনো দলের প্রার্থীর সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ হলে দেড় কোটি টাকা এবং ৫০ জনের কম হলে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে ।

