ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উৎসব
  5. ঐতিহ্য
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. পরিবেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ট্রাম্পের পর এবার চীনে পুতিন, এ সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

চীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সফর শেষের মাত্র চারদিন পর বেইজিং এবার তাদের দেশের মাটিতে স্বাগত জানাচ্ছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন পুতিন। বেইজিং বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর। পুতিনের এই সফর বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্র হিসেবে বেইজিংয়ের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

একইসঙ্গে পুতিনের এই সফর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও তুলে ধরছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন চীনকে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বলছে, তখনও এই সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে।

পুতিনের এই চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পুতিনের সফরের ঠিক আগেই ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকে তেমন কোনও চুক্তি হয়নি। সামান্য জয় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন ট্রাম্প।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঠিক এরপরই পুতিনের চীনে পদার্পন বেইজিংয়ের এই আত্মবিশ্বাসকেই সামনে আনছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে একপাশে সরিয়ে রাখার কোনও পরিকল্পনা বেইজিংয়ের নেই।

রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন ও এর পরিচালনা ব্যবস্থার প্রসারে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।

তাছাড়া, দুই দেশের মধ্যে ২০০১ সালে সই হওয়া ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে পুতিনের সফরের সময়সূচি নির্ধারণ হয়েছে।

ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। বেইজিং মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

দুই নেতা এখন পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি বৈঠক করেছেন, যা কোনও পশ্চিমা নেতার সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি।

‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’- এর জ্যোষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেছেন, “মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই নেতাকে আতিথেয়তা দেওয়া বিশ্বে চীনের অবস্থান ও মর্যাদার ক্ষেত্রে তাদের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসকেই সামনে এনেছে।”

তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্ভবত ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিতে চান যে, বেইজিংয়ের অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ও মজবুত সম্পর্ক রয়েছে। তাই ওয়াশিংটন চেষ্টা করলেও চীনকে সহজে বিচ্ছিন্ন করা বা তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।

তাছাড়া,পুতিন এমন এক সময়ে চীনে এই সফর করছেন যখন তিনি তার দীর্ঘ শাসনামলে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। চলতি বছর ইউক্রেইনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া তেমন অগ্রগতি করতে না পারায় দেশে পুতিনের শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চীনের ওপর তার নির্ভরশীলতা ক্রমাগত বাড়ছে, যা ক্রেমলিনের দৃষ্টিতে সমান অংশীদারত্বের সম্পর্ককে আরও বেশি একপেশে একটি সম্পর্কে পরিণত করছে।

সফরের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন চীনের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। এতে তিনি বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘এক নজিরবিহীন পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে পুতিন দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, মার্কিন ডলারের পরিবর্তে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রুবল ও ইউয়ানে লেনদেন সম্পন্ন হওয়া এবং চীনা ও রুশ ভ্রমণকারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসামুক্ত নীতির কথা উল্লেখ করেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও​জিয়াকুন মঙ্গলবার বলেছেন, শি-পুতিনের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনার মাধ্যমে “দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে এবং মানুষের হৃদয়ে তা আরও দৃঢ়ভাবে গেঁথে যাবে।”


সংবাদটি শেয়ার করুন....