ঢাকাসোমবার , ৩১ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উৎসব
  5. ঐতিহ্য
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. পরিবেশ

জামালপুরে আলাই নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি-রাস্তা বিলীন, নির্ঘুম নদীপাড়ের মানুষ

জামালপুর প্রতিনিধি।। দ্য স্টার নিউজ
আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

“পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমায়ে ছিলাম। রাত তিনটার দিকে হঠাৎ দেখি ঘরের অর্ধক অংশ নদীতে পড়ে গেছে। চিৎকার চেঁচামেচি করে পাড়ার মানুষকে ডেকে ঘরের কিছু মালামাল উদ্ধার করতে পারছি। ভাঙতে ভাঙতে তো সবই শেষ হয়ে গেল।”

এভাবেই ভাঙনে ঘর হারানোর অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের সাদিপাটি বাজার এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য লালু মোল্লা।

যমুনার শাখা আলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী লালু মোল্লা সম্প্রতি নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন।

চলতি বছরের জুন থেকে মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের সাদিপাটি বাজার থেকে পচাবহলা এলাকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে আলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন চলছে।

ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বসতবাড়ি, রাস্তা ও দোকান। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ফসলি জমিসহ আরও অন্তত পাঁচশ বসতবাড়ি।

অব্যহত ভাঙনের কারণে নদী পাড়ের বাসিন্দারা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এ অবস্থায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলছেন, আলাই নদীতে জরুরি কাজ চলছে; দ্রুতই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি আলাই নদীর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়।

এ সময় ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের পচাবহলা এবং মেলান্দহের কুলিয়া ইউনিয়নের সাদিপাটি ও বল্লভপুর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়।

এর আগে গত কয়েক বছরের ভাঙনে সাদিপাটি বাজার থেকে সাদিপাটি পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সাদিপাটি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদের উত্তর পাশের রাস্তার কিছু অংশও ভেঙে গেছে।

এ বছর সাদিপাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ভাঙন দেখা দিলে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সাদিপাটি বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলছিলেন, “আলাই নদী ভাঙনের কারণে সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত সড়ক ভেঙে যাওয়ায় লোকজন যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না। মানুষের বাড়ির উঠান দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুল যেতে পারছে না।”

সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত জিও ব্যাগের পরিবর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ভাঙা অর্ধেক ঘরেই থাকতে হচ্ছে ইউপি সদস্য লালু মোল্লাকে। এইটুকুও কখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

লালু বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারি না। এখন কিভাবে যে দিন পার করি সেই চিন্তায় আছি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই।”

সাদিপাটি এলাকার সাহারা খাতুন বলছিলেন, “কয়েক বছরে আলাই নদীর ভাঙনের কারণে রাস্তা, জায়গা-জমি নদীতে চলে গেছে। রাস্তা না থাকায় চলাচল করা যায় না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালেও নেওয়া যায় না।

“শুধু রাস্তা না থাকায় আমাদের এই এলাকায় কেউ বিয়ে দিতেও চায় না, করতেও চায় না। আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি।”

ওই এলাকার ফুরকান মোল্লা বলেন, “নদী ভাঙতে ভাঙতে সাদিপাটি বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদের কিনারে এসে ঠেকেছে। মসজিদের পিলার বেরিয়ে এসেছে। এখন যদি ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে মসজিদের কী হবে জানি না।”

স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে জানতে চাইলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন,

“যমুনার শাখা আলাই নদীতে জরুরি কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেই ওই এলাকায় ভাঙন রোধ করা যাবে।”


সংবাদটি শেয়ার করুন....