
ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।
বিবিসি লিখেছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান স্থগিত করার পর ইরানে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স সিবিএস নিউজকে বলেন, “ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যদের সমুদ্র মাইন পাতাসহ রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।”
আইআরজিসি বলেছে, রোববারের হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। তারা এর ‘জবাব ও শাস্তি’ দেবে।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
আইআরজিসির বিবৃতি আসার পর জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
লারাক দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস উপকূলের কাছেই অবস্থিত এবং এটি হরমুজ প্রণালির মুখে অবস্থিত।
বিবিসি লিখেছে, ইরান বর্তমানে তেলবাহী জাহাজগুলোকে লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে জাহাজগুলোকে পার হওয়ার জন্য ২০ লাখ ডলার করে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এ হামলাকে ‘ট্রাম্প সরকারের কৌশলগত ও প্রাণঘাতী ভুল’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, “শত্রুকে এই ভুল হিসাবের পরিণতি অর্থনৈতিক ও সামরিক—দুই ক্ষেত্রেই ভোগ করতে হবে।”
তাসনিম নিউজ এজেন্সি এর আগে জানিয়েছিল, ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় দুজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন।
কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের সংবাদমাধ্যমে আইআরজিসির একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে দাবি করে আইআরজিসি বলেছে, হামলায় ‘কারিগরি অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং শত্রুর যুদ্ধবিমানের অবস্থান’ নিশানা করা হয়েছে।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করতে যেসব মাইন পেতে রেখেছিল, সেগুলো সব ধ্বংস করা হয়েছে অথবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো জাহাজ বা নৌযান নতুন করে মাইন বসাতে গেলে সেটি ধ্বংস করা হবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ট্রাম্পের ওই দাবিকে ‘প্রপাগান্ডা’ বলে বর্ণনা করেন।
ওয়াশিংটন গত ২৪ অগাস্ট নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান আবারও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হল তেহরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের মিত্রদের ওপরও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো।
ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নতুন এ নিষেধাজ্ঞাকে আগের মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতার পরই ওয়াশিংটন এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং তাদের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এখন ছয় মাস পেরিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হত।

