
ত্বকের খসখসেভাব দূর করতে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার আর হাইড্রেইটর ব্যবহারের চল এখন ঘরে ঘরে।
প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, এই দুই উপাদান মূলত একই কাজ করে এবং ত্বকের যত্নে যেকোনো একটি মাখলেই হয়।
তবে আধুনিক চর্মরোগ বিজ্ঞান ও কসমেটিক রসায়নবিদ্যায় বলা হয়, হাইড্রেইটর এবং ময়েশ্চারাইজার সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি প্রসাধনী এবং এদের কাজের ধরনও আলাদা।
ত্বকের নিজস্ব ধরন না বুঝে উল্টোপাল্টা ক্রিম মাখলে কোষের আর্দ্রতা তো ফেরেই না, উল্টো ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা তৈলাক্ত হয়ে ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
হেল্থলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিনথিয়া কব এবং কসমেটিক রসায়নবিদ পেরি রোমানোস্কি হাইড্রেইটর ও ময়েশ্চারাইজারের মূল পার্থক্য এবং তা নির্বাচনের সঠিক নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
হাইড্রেইটর ও ময়েশ্চারাইজারের মধ্যে পার্থক্য
পেরি রোমানোস্কি বলেন, “প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপণন বা মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্যে এই দুটি ‘টার্ম’ ব্যবহার করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এদের আলাদা উপাদান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।”
হাইড্রেইটর: এগুলো মূলত ‘হিউমেক্ট্যান্ট’ ধরনের উপাদান, যেমন- হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, মধু বা অ্যালোভেরা। এদের প্রধান কাজ হল, বাতাস বা চারপাশের পরিবেশ থেকে পানি কণার শোষণ ঘটিয়ে ত্বকের কোষের ভেতরে জলীয় জোগান ধরে রাখা। এটি ত্বককে ভেতর থেকে নরম ও সতেজ করে।
ময়েশ্চারাইজার: এগুলো হল তেল-ভিত্তিক বা ‘অক্লুসিভ’ উপাদান, যেমন- পেট্রোলিয়াম জেলি, শিয়া বাটার, ল্যানোলিন, নারিকেল তেল বা জোজোবা অয়েল।
এগুলো ত্বকের উপরিভাগে একটি অদৃশ্য সুরক্ষামূলক দেয়াল বা ‘সিল’ তৈরি করে, যেন কোষের ভেতরের পানি বাইরে বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যেতে না পারে। এটি ত্বকের উপরিভাগ মসৃণ করে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোনটি বেছে নেবেন?
সর্বোচ্চ সুফল পেতে বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিক নিয়ম নিচে দেওয়া হল।
প্রাকৃতিকভাবে শুষ্ক ত্বকের জন্য কড়া ময়েশ্চারাইজার
যাদের ত্বক সারাবছর খসখসে থাকে এবং চামড়া ওঠে, তাদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই পানি বা তেল ধরে রাখতে পারে না। এদের জন্য ভারী এমোলিয়েন্ট বা অক্লুসিভ ময়েশ্চারাইজার সেরা পছন্দ হতে পারে।
পেরি রোমানোস্কির মতে, “অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্লাসিক পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন ভালো কাজ করে। যারা এটি এড়াতে চান, তারা শিয়া বাটার বা উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করতে পারেন।”
পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেইটেড ত্বকের জন্য হাইড্রেইটিং সেরাম
ত্বক যদি ভেতর থেকে ডিহাইড্রেইটেড বা পানিশূন্য হয়, তবে কোষে সরাসরি পানির জোগান দিতে হবে। এজন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ হালকা সেরাম ব্যবহার করা বৈজ্ঞানিক নিয়ম, যা নিজের ওজনের চেয়ে এক হাজার গুণ বেশি পানি ধরে রাখতে পারে।
সেরাম মাখার পর অবশ্যই ওপরে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে আটকে দিতে হবে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য পানিধর্মী হালকা উপাদান
তৈলাক্ত ত্বকও অনেক সময় পানিশূন্য হতে পারে, ফলে মস্তিস্কের সংকেতে ত্বক আরও বেশি ক্ষতিকর তেল বা সেবাম তৈরি করে।
এদের জন্য তেল-মুক্ত, নন-কমেডোজেনিক এবং পানি-নির্ভর হালকা জেল হাইড্রেইটর ব্যবহার করা নিরাপদ, যা লোমকূপ বন্ধ না করেই ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।

