ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উৎসব
  5. ঐতিহ্য
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. পরিবেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাশিয়ার সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন, বলছেন ইউরোপীয় গোয়েন্দারা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

চীনের সশস্ত্র বাহিনী গত বছরের শেষ দিকে গোপনে রাশিয়ার প্রায় ২০০ সেনাসদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই সেনাদের কয়েকজন পরে ইউক্রেইনে যুদ্ধ করার জন্য ফিরে গেছে।

তিনটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং নথির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০২২ সালে ইউক্রেইনে মস্কোর পূর্ণ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে চীন ও রাশিয়া বেশ কয়েকটি যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে। তবে চীন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা ইউক্রেইন যুদ্ধে নিরপেক্ষ এবং নিজেদেরকে শান্তিস্থাপনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেই তারা উপস্থাপন করে আসছে।

চীনে রুশ সেনাদের গোপন প্রশিক্ষণ সেশনগুলো ছিল মূলত ড্রোনের ব্যবহার শেখানো নিয়ে। ২০২৫ সালের ২ জুলাই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ঊর্ধ্বতন রুশ ও চীনা কর্মকর্তাদের সই করা একটি দ্বিভাষিক রুশ-চীনা চুক্তিতে এই প্রশিক্ষণের রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রশিক্ষণে মূলত ড্রোন পরিচালনার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, মাইন ওয়ারফেয়ার এবং ডি-মাইনিং-এর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আর্মি এভিয়েশন এবং সাঁজোয়া ইউনিটের কার্যক্রমও এই প্রশিক্ষণের আওতায় রাখা হয়।

রয়টার্স চুক্তিটি পর্যালোচনা করে দেখেছে। এতে বলা হয়েছে, রাজধানী বেইজিং এবং পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিং-সহ বিভিন্ন স্থানের সামরিক স্থাপনায় প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। গোয়েন্দারা কর্মকর্তারা বলছেন, পরে প্রায় এই সংখ্যক সেনাই চীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছিল, চীনের শত শত সেনাও রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোতে প্রশিক্ষণ নেবে।

পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম খুবই গোপন রাখা হয়। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, ইউক্রেইন যুদ্ধে লড়তে যাওয়া রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদেরকে আভিযানিক ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে চীন ইউরোপ মহাদেশের এই যুদ্ধে আগের ধারণার চেয়েও বেশি সরাসরিভাবে জড়িত থেকেছে।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে সে সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য অনুরোধে রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনও সাড়া দেয়নি।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, “ইউক্রেইন সংকটের বিষয়ে চীন ধারাবাহিকভাবে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে কাজ করেছে, যা সুসংগত ও সুস্পষ্ট। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর সাক্ষী। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত উস্কে দেওয়া বা দোষ চাপানো উচিত নয়।”

ইউরোপীয় শক্তিধর দেশগুলো, যারা রাশিয়াকে বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে, তারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার দেশ চীনের সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সাবধানতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

২০২২ সালে ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর কয়েকদিন আগে চীন এবং রাশিয়া নিজেদের মধ্যে ‘সীমাহীন’ কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছিল এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মহড়া করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

পশ্চিমারা যখন রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছিল, তখন চীন তেল, গ্যাস ও কয়লা কিনে রাশিয়াকে টিকিয়ে রাখে।

চীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সফর শেষের এক সপ্তাহ না যেতেই বেইজিং এবার তাদের দেশের মাটিতে স্বাগত জানাতে চলেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। এটি হতে চলেছে পুতিনের ২৫তম চীন সফর।

চীন ও রাশিয়া বলছে, পুতিনের এই দুই দিনের সফর দুই দেশের ‘সব পরিস্থিতিতে চলা অংশীদারত্বেরই’ প্রমাণ। পশ্চিমা দেশগুলো যখন চীনকে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বলছে, তখনও এই সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন....