ঢাকাসোমবার , ৩১ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উৎসব
  5. ঐতিহ্য
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. পরিবেশ

মেইকআপের কারণে ত্বকের ক্ষতি এড়াতে

লাইফস্টাইল ডেস্ক।। দ্য স্টার নিউজ
আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

বাহ্যিক সৌন্দর্য আকর্ষণীয় করতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মেইকআপের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে এবং প্রসাধনীর মান নিয়ে অসচেতন থাকলে এই মেইকআপই অলক্ষ্যে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

মেইকআপে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলো ত্বকের স্বাভাবিক ‘পিএইচ’ ভারসাম্য এবং রক্ষাকবচ অবশ করে ফেলে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের যাকে ‘কসমেটিক-ইনডিউসড স্কিন ড্যামেজ’ বলা হয়।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক পোর্টাল ‘হেলথ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন ডা. উইলিয়াম ট্রুসভেল বলেন, “মেইকআপের সম্পূর্ণ অন্ধকার দিক ও সুরক্ষার নিয়মগুলো জানা জরুরি।”

নিয়মিত মেইকআপের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডা. উইলিয়াম ট্রুসভেল সতর্ক করেন, “মেইকআপের রাসায়নিক ফর্মুলেশন ত্বকের ওপর দীর্ঘক্ষণ থাকলে নিচে উল্লেখিত জটিলতাগুলো দেখা দেয়।”

হরমোন ও এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের বিকৃতি: অনেক মেইকআপে পিজারভেটিভ বা সংরক্ষক হিসেবে ‘প্যারাবেন্স’, ‘ট্রাইক্লোসান’ এবং ‘ফ্যালেটস’ ব্যবহার করা হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় প্রমাণিত যে, এই উপাদানগুলো ‘এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টর’ বা হরমোন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিকৃতি ঘটায়।

ত্বকের অ্যালার্জি ও র‌্যাশ: প্রসাধনীতে ব্যবহৃত কৃত্রিম সুঘ্রাণ ও রংয়ের ডাই ত্বকের সংস্পর্শে এসে কোষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অতি-সক্রিয় করে তোলে। ফলে ত্বক লাল হওয়া, তীব্র চুলকানি এবং ‘কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’ দেখা দেয়।

ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ও ফাঙ্গাস: মেয়াদোত্তীর্ণ মেইকআপ বা নোংরা ব্রাশ ব্যবহারে প্রসাধনীর ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছাতা বা ফাঙ্গাস বাসা বাঁধে। এগুলো মুখে লাগালে ত্বকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

লোমকূপ বন্ধ ও ব্রণের উপদ্রব: মেইকআপের ভারী ফর্মুলা ত্বকের তেল ও ঘাম গ্রন্থির সূক্ষ্ম লোমকূপগুলোকে পুরোপুরি ‘ক্লগ’ বা বন্ধ করে দেয়। লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে তীব্র ব্রণের উপদ্রব শুরু হয়।

অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখা: মেইকআপ নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা শুকিয়ে খসখসে হয়ে যায়। কোষের এই অভ্যন্তরীণ শুষ্কতা ও প্রদাহ, ত্বকের রক্ষাকবচ বা স্কিন ব্যারিয়ারকে দুর্বল করে দেয়, যা বয়সের আগে মুখে বলিরেখা ও অকাল বার্ধক্য ডেকে আনে।

মেইকআপের কিছু চিকিৎসাগত সুফল

মার্কিন স্বাস্থ্য-গবেষক সারাহ ব্র্যাডলি একই প্রতিবেদনে বলেন, “বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরিমিত মেইকআপ ব্যবহারের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে।”

যেমন, এসপিএফ ৪৫ বা তার বেশি মাত্রার ফাউন্ডেশন স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া কিছু চিকিৎসাগত মেইকআপে স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা রেটিনলের মতো উপাদান থাকে, যা ব্রণের চিকিৎসায় কাজ করে।

ব্রাজিলের ‘উনিভার্সিডাদ ফেডেরাল দে সাও পাওলো’র মেডিসিন বিভাগের করা ২০২৪ সালের এক মনস্তাত্ত্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিজের জন্য মেইকআপ করা মানুষের মনের দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতার লক্ষণ দ্রুত দূর করতে পারে।

মেইকআপ ব্যবহার করেও ত্বক সুস্থ রাখার নিয়ম

ডাবল ক্লিনজিং রুটিন: মেইকআপ মেখে ঘুমানো একদম নিষিদ্ধ। রাতে ঘুমানোর আগে প্রথমে তেল-ভিত্তিক বাম বা অয়েল ক্লিনজার দিয়ে মেইকআপ গলিয়ে নিয়ে, এরপর সাধারণ ফেইসওয়াশ ও পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে।

সাপ্তাহিক বিরতি বা স্কিন ফাস্টিং: সপ্তাহে অন্তত ১ থেকে ২ দিন সম্পূর্ণ মেইকআপ-মুক্ত থাকা উচিত। এতে মগজের কোষের মতো ত্বকের কোষগুলোও মানসিক হরমোনের ধকল থেকে নিজেকে মেরামত করার সুযোগ পায়।

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বর্জন: মেইকআপের রং, গঠন বা গন্ধ পরিবর্তন হওয়া মাত্রই, তা ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। পুরানো মেইকআপ ব্যবহার সংক্রমণ বা ইনফেকশনের প্রধান কারণ।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা: নিজের কসমেটিক্স কখনই অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার বা আদান প্রদান করা যাবে না। প্রতি সপ্তাহে মেইকআপের ব্রাশ ও ব্লেন্ডার ভালো করে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।

পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান: কসমেটিকসের কড়া কেমিক্যালের অভ্যন্তরীণ ধকল থেকে কোষগুলোকে সতেজ রাখতে এবং পরিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।


সংবাদটি শেয়ার করুন....