
‘এই জায়গাটা আমার খুব ভালো লেগেছে, আমি এখন থেকে প্রায়ই এখানে আসব’-যে বাগানবাড়ির আঙিনা পছন্দ করে এই কথা বলেছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার, সেখানেই এখন চিরঘুমে তিনি।
মাত্র দুই মাস আগের কথা, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে নানির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পারিবারিক এই বাগানবাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলেন কারিনা।
সবুজে ঘেরা শান্ত এই জায়গাটা দেখে মন ভরে গিয়েছিল তার। পাশেই থাকা প্রতিবেশী নীলা নামের এক নারীকে বলেছিলেন, “এই জায়গাটা এত সুন্দর, আমার খুব ভালো লেগেছে।”
নীলা কারিনাকে বলেছিলেন, ‘তুমি তো আসই না, তোমার ভাইয়েরা তো আসে।’
সেসময় কারিনার উত্তর ছিল, “সত্যি বলছি, এখন থেকে রেগুলার আসব। দেখবেন এসে এসে আপনাদের বিরক্ত করে তুলব।”
কারিনার বলা এই কথাগুলো গ্লিটজের কাছে তুলে ধরে অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা কায়সার হামিদ।
তিনি বলেন, “আমার মেয়ে যখন এই কথাগুলো বলেছিল তখন একবারও কল্পনা করেনি, এই বাগারবাড়িতেই তাকে একবারে রেখে যেতে হবে। এই জায়গাটা যে স্থায়ীভাবে তার ঠিকানা হয়ে যাবে, এটা আমরা কেউ কল্পনাও করিনি।”
হামিদ বলেন, “কারিনা যখন এই জায়গার পছন্দের কথা জানিয়েছিল, তখন তার মা বলেছিল, এটা কারিনার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। সেটা শুনেও কারিনা খুশি হয়েছিল। মেয়েটাকে এই বাগানবাড়িতে একা রেখে আসলাম সকালে।”
নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করা কায়সার হামিদ বলেন, “মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে সব শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বাস করতে পারছি না আমার মেয়ে নেই। কারিনা তো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় যায়, মনে হচ্ছে তেমনই দূরে আছে, দেখা হবে কথা হবে। আমার মেয়েটা ভালো ছিল, হেঁটে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমার মেয়ে আমার হাতে শেষ দুই গ্লাস পানি খেয়েছিল। চেন্নাই যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনো বিশ্বাস ছিল মেয়েটা সুস্থ হয়ে যাবে।”
লিভার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
রোববার বিকেলে দেশে আসে কারিনার মরদেহ। দেশে আসার পর জানাজা শেষে সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জে দাফন করা হয়েছে কারিনাকে।
লিভারের জটিলতা ছিল কারিনার, এরপর হঠাৎ তীব্র জ্বর আসায় দেশের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে কারিনা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত বলে চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছিলেন তারা বাবা।
এরপর এক সপ্তাহ ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারিনা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় চেন্নাইয়ের ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে।
চেন্নাই থেকে বুধবার লোপা কায়সার বলেছিলেন, লিভার প্রতিস্থাপন বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মত শারীরিক অবস্থায় কারিনা নেই।
সেখানকার চিকিৎসকদের বরাতে লোপা জানিয়েছিলেন, কারিনার ফুসফুসে অনেকটা তরল ও কফ জমে গিয়েছিল। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। তবে অস্ত্রোপচরের পর্যায়ে আর যেতে পারেননি তারা।
‘এ’ লেভেল শেষ করে পড়ালেখার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইংরেজি ডেস্কে কিছুদিন কাজ করেছেন কারিনা কায়সার।
দেশে ফিরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও গত কিছুদিন ধরে কারিনা অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি তৈরি হচ্ছিল।
তার কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

